আজকের এই আধুনিক যুগে ফলনের জন্য ৰাসায়নিক সারের প্রয়োগ অত্যাধিক পৰিমানে বেড়ে গেছে যার ফলে মানুষের নানান ধরণের ৰোগাক্ৰান্ত বেড়ে গেছে। গতিকে আমাদের সবার নিজের বাড়িতে সহজে জৈব সার তৈরি করা যায় এবং এটি গাছপালা ও মাটির জন্য খুবই উপকারী। বাড়িতে জৈব সার তৈরির পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:
কীভাবে বাড়িতে জৈব সার তৈরি করবেন ?
১. উপাদান সংগ্রহ:
জৈব সার তৈরির জন্য কিছু সাধারণ জৈব উপাদান সংগ্রহ করতে হবে, যেমন:
- ফলমূল ও সবজির খোসা
- চা-পাতা ও কফির অবশিষ্টাংশ
- ডিমের খোসা
- ছোট ছোট গাছের পাতা ও ঘাস
- রান্নাঘরের অন্যান্য বর্জ্য (যেমন চালের মাড়)
২. কম্পোস্ট বিন বা গর্ত তৈরি:
যদি আপনার কাছে জায়গা থাকে, তাহলে বাড়ির বাইরে মাটিতে একটি ছোট গর্ত করতে পারেন, যেখানে এইসব উপাদানগুলি জড়ো করবেন। অন্যথায়, আপনি কম্পোস্ট বিন বা বড় একটি ড্রামও ব্যবহার করতে পারেন।
৩. স্তর তৈরি:
কম্পোস্ট বিন বা গর্তে উপাদানগুলি স্তরে স্তরে রাখুন। উদাহরণস্বরূপ:
- প্রথমে কিছু শুকনো পাতা বা ঘাস দিন, এটি সারের নিচের স্তর হিসেবে কাজ করবে।
- এর ওপর ফলমূলের খোসা, সবজির বর্জ্য এবং অন্যান্য জৈব উপাদান রাখুন।
- প্রয়োজনে কিছু মাটি বা পুরনো সার যোগ করুন।
৪. জল ও বায়ু সংযোজন:
- কিছুটা জল যোগ করুন, তবে বেশি না। মিশ্রণটি আর্দ্র থাকা উচিত, তবে অতিরিক্ত ভেজা নয়।
- বিনের ঢাকনা হালকা করে লাগান যাতে কিছু বাতাস ভেতরে ঢুকতে পারে। এটি ঘন ঘন নাড়াচাড়া করে বাতাস প্রবাহ করতে হবে যাতে দ্রবণের মধ্যে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে এবং পচন ভালো হয়।
৫. অপেক্ষা এবং পরিচর্যা:
- এই মিশ্রণটি দুই-তিন মাস রেখে দিন। প্রতিসপ্তাহে একবার নাড়াচাড়া করুন। এটি দ্রুত পচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।
- দুই থেকে তিন মাস পরে, এটি গাঢ় বাদামি এবং মসৃণ সারে পরিণত হবে। এটি ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত।
৬. সারের ব্যবহার:
- তৈরি করা জৈব সার সরাসরি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে পারেন অথবা মাটির সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
এইভাবে নিজেই আপনার বাড়িতে প্রাকৃতিক উপায়ে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব জৈব সার তৈরি করতে পারেন!
পঢ়ক -